Main Menu

পিতা মাতার প্রতি একটু সময় দিয়ে ভাবুন

+100%-

father_mother

মা’ মরে গেলে সন্তান হিসেবে আপনার উচিৎ আপনার বাবাকে ২য় বার বিয়ে দেয়া!

হয়ত ভাবছেন, সন্তান নিয়ে বাবা দিব্বি জীবন পার করতে পারবে আবার এই বয়সে বিয়ে করে আমাদের ইজ্জত নস্ট করার কি দরকার ! এত ইজ্জত যায় না ! সমাজ আমাদের তৈরি…..একটু ভেবে দেখুন আপনি যখন বড় হয়ে নিজ সঙ্গিটির সাথে জীবন যাপন করবেন তখন ঐ নিঃসঙ্গ বাবাকে সঙ্গ দেবে কে ? বাবাকে বিয়ে করালে আপনার বাবা আপনারই থাকবে…এবং সৎ মা নয়…তাকে আপন মায়ের মতো ভালবাসলে সে ও আপনাকে সন্তানের মতো ভালবাসবে….
যদি আপনার বাবা আপনার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২য় বিবাহ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে তবে আপনি কেনসন্তান হিসেবে তাকে বিয়ে করাতে পারবেন না এই তথাকথিত সম্মানহানীর ভয়ে? আপনার বাবার চেয়ে কি সম্মান বড়? এমনও হতে পারে আপনার প্রিয় বাবাকে আর কোনদিনও বুড়ো বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে না…..
মন্দ হোক আর ভাল হোক বাবা আমার বাবা
পৃথিবীতে বাবার মতো আর আছে কে বা?
সেই সে বাবাকে কেন সুখ দেব না, কেন শান্তি দেব না….আমি সমাজের চিন্তায় চিন্তিত নই কারন আমি সন্তান আগে…..আমার বাবার সন্তান……

মা’ মরে গেলে সন্তান হিসেবে আপনার উচিৎ আপনার বাবাকে ২য় বার বিয়ে দেয়া যখন এ কথাটি চলে আসে তখন প্রশ্ন চলে আসে মা’কে নয় কেন?

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট এবং ট্রেডিশন অন্য দেশের মতো নয়। একটু আলাদা, একটু মমতাঘেরা। মা’ শব্দটি আমাদের কাছে বড়ই ইজ্জতের এবং সম্মানের। একজন মা’ মারা গেলে একজন বাবার পক্ষে তার চাকুরি বা ব্যবসা সামলিয়ে বাচ্চাদের সামলান বা সংসার সামলান সহজ কাজ নয়। যা সহজে একজন মা’ তার স্বামী মারা যাবার পরও ঘর এবং বাহির খুব সুন্দরভাবেই সামলাতে পারেন। এজন্যই একজন নারী মা-বোন-জায়া। সে যে কোন অবস্থাতেই যে কোন সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দর এবং সাবলীলভাবে সম্পন্ন করতে পারে। যা একজন পুরুষ করতে চাইলে তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে পরে।এজন্যই একজন বাবা মারা গেলে একজন মাকে সহজেই বিয়ে দেয়া যায় না বা সমাজ ব্যবস্থার কারনে হয় না। কিন্তু আমি মনে করি সবার আগে আমার মা’।মায়ের শান্তিই একজন সন্তানের শান্তি হওয়া উচিত। সমাজ আমাদের তৈরি। আমার সুযোগ সুবিধার জন্য তৈরি। তাহলে কেন একজন মা’ মাত্র পাঁচ বছর সংসার করার পর তার স্বামী মারা গেলে বিযে দেব না? অবশ্যই দেব কিন্তু সেজন্য চাই আমার সে রকম একজন পুরুষ। যিনি একজন মা সহ তার সন্তানকে অতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিবে।আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থাতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে পর কনে চলে যায় বরের বাড়ি। তাই একজন মা’কেও ২য় বিয়ে দিতে হলে স্বামীর বাড়ি চলে যেতে হবে। সেকারনে একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের উপর কিছুই নেই।একজন মা’ কিছুতেই তার সন্তান ফেলে নিজের সুখের চিন্তা করবে না।তাই মা’কে ২য় বিয়ে দিতে চাইলেও একজন উদার মনে পুরুষ ছাড়া অনেক সময় এ বিযে দেয়া সম্ভব হয় না। নেতিবাচক মনোভাবের কারনে খুব কম পুরুষই আছেন যে বউয়ের ১ম সংসারের বাচ্চাসহ বউকে ঘরে তুলেন। একেবারে যে দু’একজন নেই তা কিন্তু আমি অস্বীকার করছি না। আর যতদিনে এরকম পুরুষের সংখ্যা সমাজে না বাড়বে ততদিন পর্যন্ত একজন বিধবা মা’কে বিয়ে দেয়া সহজ হবে না। শুধু বিয়ে নয়, দেখতে হবে একজন পুরুষ বিয়ে করার সাথে সাথে সন্তাটিকেও জেনে শুনে বুঝে সুন্দরভাবে নিজের সন্তানের মতো মেনে নেয় নিজ সন্তানের মতো। তাহলে একটি পিতৃহারা সন্তান পেল বাবা আর একজন চাপাকস্টে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকা মা’ পেল একজন সুখ-দুঃখের সাথী। আবার, এমনও হতে পারে চাইলে ২য় স্বামীটি বউয়ের ১ম স্বামীর বাড়িতেও থাকতে পারে যদি তার আত্ম-সম্মানে না লাগে। আর আমি মনে করি, এখানে আত্ম-সম্মানহানীর কিছু্‌ নেই। কারন, যেটা সবাই করে ওটা সাধারন। আর যে কাজ দু’একজন করে ওটা উদাহরণ…ওটাই সমাজে অসাধারন কাজ। হয়ত সমাজে অভাব নেই একজন বিধবা মা’কে বিয়ে করার মতো পুরুষ কিন্তু অনেকেরই শর্ত থাকে সন্তান যেতে পারবে না বা দেখা করতে পারবে না বা বডিং স্কুলে থাকবে…ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে এসব বাচ্চাদের ভাগ্যে জুটে নানী-দাদী-চাচী-মামীদের বা বডিং স্কুলে থাকার এক যন্ত্রনা। এসব চিন্তা করে একজন বিধবা মা’কে বিয়ে দেয়া বা বিয়ে করতে চাইলেও বিযে করা সম্ভবপর হয় না। এখানেও একজন নারীর কিছুটা অপারগতা থেকেই যায়। নারী হয়ে জন্মালেই যেন কিছুটা পিছুটান, কিছুটা দুর্বলতা, কিছুটা অসহায়ত্ব তেকেই যায়! তাহলে কিসের শিক্ষা আর কিসের দীক্ষা? আর কিসের পরিবর্তন? ছিলাম যেখানে এখনো আছি ঠিক আগের মতোই সেখানে। আমি একজন নারী আমি চাইলেই সব হবে না যদি না একজন পুরষ আমাকে যথার্থ সহযোগীতা না করে !
পরিশেষে, আমি সমানাধিকারে বিশ্বাসী নই। আমি চাইনা কোন নারী তার চাপাকস্টে জীবন পার করুক। সেজন্য চাই পুরুষের সহযোগীতা, সহমর্মীতা এবং আমাদের জন্য উদারতা। এতটুকু চাওয়া কি আমি চাইতে পারি না আপনাদের কাছে আপনাদেরই মা বা বোন বা জায়া হিসেবে?






Shares