Main Menu

বাবারা এমনই হয় “সন্তানকে আগলে রাখতে চান”

+100%-

আমিনুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাবা শব্দটি আমাদের সকলের কাছে অতি আপন। বাবা মানেই যেন একটা অন্য রকম আস্তার জায়গা। বাবা মানেই নিরাপদ আশ্রয় স্থল। তাইতো সেই বাবাকে আদালা ভাবে স্মরণ করার জন্য একটি বিশেষ দিনকে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় বাবারা এমনই হয়।সব সময় আগলে রাখতে চান সন্তানদের।কেননা সন্তানই হলো তাদের একমাত্র প্রতিচ্ছবি। সকল ক্লান্তি দূর হয়ে তাদের মিষ্টি মুখের হাসি দেখলে।

আমাদের দেশের সন্তানদের সাথে বাবাদের সম্পর্কটা দৈনন্দিন থাকে বলে এই দিবসের প্রকাশটাও কম। কিন্তু পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ দিবসের গুরুত্ব এবং পালনের আয়োজনে থাকে বেশ বৈচিত্র্য। সাধারণত পাশ্চাত্যে পিতা ও সন্তান এক সাথে থাকাটা দেখা যায় না খুব বেশী। কাজের ব্যস্ততার কারণে এবং ঐ সব দেশের কালচার অনুযায়ী এক সময় যে যার মত জীবন যাপনে অভ্যস্ত।

যে কারণে বিশ্ব বাবা দিবস পাশ্চাত্যের পিতা ও সন্তানের কাছে একটা বড় উপলক্ষ। তবে অল্প কিছুদিন হলো আমাদের দেশেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দিবসের মতো বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হচ্ছে। বাবা দিবসের ধারণা প্রথম করেন আমেরিকার ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সেনোরা ডোড নামে একজন মহিলা।

১৯১০ সালে আমেরিকায় ভার্জিনিয়ার এক গির্জায় মাতৃদিবসে এক ধর্মযাজকের ভাষণে মা সম্পর্কে শুনে সেনোরা ডোড তার বাবার কথা মনে করেন। বাড়িতে ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাবাকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করতে হবে। সেনোরা ডোড এর পিতা উইলিয়াম স্মার্ট। তিনি ছিলেন একজন সৈনিক। ছয় সন্তানের জনক। ষষ্ঠ সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় তার স্ত্রী মারা যান।

তিনি তখন সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া সন্তানসহ মোট ৬ টি সন্তানকে নিয়ে ওয়াশিংটনের এক গ্রামে চলে যান এবং সেখানে তিনি তাদের মানুষ করে তোলেন অনেক কষ্টে। ছয়টি সন্তানকে লালন করতে তার জীবনের সব কিছুকে দূরে সরিয়ে দিতে হয়। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে তাদেরকে বড় করে তোলেন। সেনোরা ডোড যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হন সে সময় তিনি উপলব্দি করেন তাদের জন্য পিতার কত কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। কন্যাদের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত দয়াশীল ¯েœহশীল পিতা।

যে পিতার কারণে মা হারা ছয় বোন আছ বেড়ে উঠেছে স্বাভাবিক সন্তানদের মতো। কখন তারা মায়ের অভাব উপলব্দি করেনি। কত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়েও আগলে রেখেছে সন্তানদের। সেনোরা ডোড উপলব্দি করেন তাদের পিতাসহ পৃথিবীতে এমন কত না পিতা রয়েছে যারা তার সন্তানের জন্য জীবনের সবকিছুকে বিসর্জন দিতে পারে। বিনিময়ে এমন কি বা দিতে পারে সন্তানেরা তাদের পিতাকে। তাই তিনি মনে করেন শুধু মাতৃ দিবস কেন পিতার ঋণতো কোন অংশে কম না মায়ের চেয়ে। তাই বাবা দিবসও পালন করতে হবে। সেনোরা ডোডের এ আগ্রহ দেখে আমেরিকার স্পোকেন অঞ্চলের ওয়াই. এম.সি এর সদস্যরা সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন।

সংবাদ পত্র গুলোও বেশ আগ্রহ সহকারে সেনোরা ডোডের এ ইচ্ছার কথা প্রচার করে। কিন্তু মাতৃদিবস পালনের জন্য যেমন সাড়া পাওয়া গিয়েছিলো তেমন সাড়া পাওয়া গেল না। এক সময় তিনি রাষ্টীয় অনুমতি আদায়ের জন্য উঠে পড়ে লেগে যান। সে সময় অনেকে তাকে সহযোগিতা করেন। সেনোরা ডোডের বাবা উইলিয়াম স্মাট জুন মাসে জন্মগ্রহন করেন।

তাই বাবাকে সম্মান জানানোর জন্য তিনি জুন মাসকে বেছে নেন। ১৯১০ সালের ১৯ জুন তার উদ্যোগে প্রথম ওয়াশিংটনের স্পোকেনে প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। ঠিক এর ১৪ বছর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেলভিন কুলিজ জনসমাবেশে জাতীয় বাবা দিবস পালনের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। এ ভাবে চলতে থাকে।

তারপর ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন রাষ্টীয়বাবে জুন মাসের ৩ তারিখ বাবা দিবস পালন ও রাষ্টীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এক সরকারি বার্তায় ১৯ জুন কে বাবা দিবস পালনের ঘোষণা দেন। বিগত কয়েক বছর আগে থেকেই জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তাই আজকের দিনে পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares