Main Menu

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ

+100%-

এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই প্রথম হোয়াইটওয়াশ হওয়া। কয়েক বছর পর কেনিয়ার বিপক্ষে সিরিজে দিয়ে বাংলাদেশ বুঝতে পারে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদটা কেমন হয়। এরপর যত সময় গড়িয়েছে, জিম্বাবুয়েকে তত সহজ প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে বাংলাদেশ। দুই-একবার নয়, ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে তিনবার হোয়াইটওয়াশ করার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের ঝুলিতে। এবার সেটা চারে নিয়ে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে বিধ্বস্ত করে সাত উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে চারটি ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এটা ১২তম হোয়াইটওয়াশ করার সিরিজ। এর মধ্যে আছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিতে হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতিও। এই ১২তম হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশকে প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হলো। সর্বশেষ ২০১৫ সালে নভেম্বরে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করা জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহই গড়ে। শন উইলিয়ামসের সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেটে ২৮৬ রান তোলে সফরকারীরা। কিন্তু এই সংগ্রহও মামুলি বানিয়ে ফেলেন ঝলমলে ব্যাটিং করা ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি ও রেকর্ড জুটিতে ৪৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

২৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই হোঁচট খায়। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান আগের ম্যাচে ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা লিটন কুমার দাস। এমন শুরুতেই স্বভাবতই চাপে পড়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। যদিও চাপ কী, সেটা বুঝতেই দেননি চলতি সিরিজে ব্যাট হাতে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া ইমরুল কায়েস ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ফজলে রাব্বির জায়গায় দলে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার।

দ্বিতীয় উইকেটে রেকর্ড ২২০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন ইমরুল-সৌম্য। এক জুটিতে অনেক রেকর্ড গড়া এই দুই ব্যাটসম্যান রীতিমতো ব্যাটিং শো দেখিয়েছেন। সৌম্য সরকার ছিলেন বিধ্বংসী ভূমিকায়। জিম্বাবুয়ের বোলারদের বল মোয়া বানিয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজিয়ে বসেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বাংলাদেশের মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

অফ ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়া সৌম্য জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার স্বীকৃতিস্বরুপ শেষ ওয়ানডেতে দলে ডাক পান। সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন দীর্ঘদিন ধরে ছন্দে ফেরার চেষ্টায় থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দলে ফিরেই খেলে ফেললেন ৯২ বলে ৯টি চারও ৬টি ছক্কায় ১১৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।

আর ইমরুল কায়েস তো রীতিমতো রান মেশিন হয়ে উঠেছিলেন এই সিরিজে। প্রথম ম্যাচে ১৪৪, দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ করার পর শেষ ম্যাচে ১১৫ রানের অনবদ্য ইনিংস। এই তিন ইনিংসে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ইমরুল এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এ পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা তামিম ইকবালকে।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে ৩১২ রান করেছিলেন তামিম। এতদিন ওটাই ছিল সর্বোচ্চ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে – রান করে ইমরুল রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন।

এই দুই সেঞ্চুরিয়ান ২২০ রানের জুটি গড়ার পথে অনেক রেকর্ড ভেঙেছেন। ওয়ানডেতে ঘরের মাটিতে এটা বাংলাদেশের সেরা জুটি। দ্বিতীয় উইকেটেও সেরা জুটি। এই পথে তারা পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের গড়া ২০৭ রানের জুটিকে। যে কোনো উইকেটেও সেরা জুটি গড়ার পথে ছিলেন তারা। মাত্র পাঁচ রানের জন্য পারেননি। ২২৫ রান করতে পারলেই সেটা হয়ে যেত যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। পেছনে পড়ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গড়া ২২৪ রানের জুটি।

প্রথম বলেই উইকেট হারালেও ইমরুল ও সৌম্য সেটা মাথায় নেননি। ১৫.২ ওভারেই দলের রান ১০০ পূর্ণ করেন তারা। ২০০ রানে পৌঁছাতে আর কম বল খরচা করেছে এই জুটি। পরের ১০০ রান তুলতে মাত্র ১২.১ ওভার খরচা করেছেন তারা। এই সময়ে জিম্বাবুয়ের বোলাররা কেবল চেয়েচেয়ে ইমরুল ও সৌম্যর ব্যাটিং তাণ্ডব দেখে গেছেন।

এরআগে ব্যাট হাতে শাসনই করেছে জিম্বাবুয়ে। যদিও তাদের ইনিংসের শুরুতে সেই শাসনের ছাপ ছিল না। বাংলাদেশের দুই তরুণ পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার রনির বোলিং তোপে ১৬ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারাতে হয় তাদের। কিছু বুঝে ওঠার আগে ফিরে যেতে হয় অভিজ্ঞ হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও চেফাস ঝুয়াওকে। তবে পুরো ইনিংসে জিম্বাবুয়ের দুঃখ এতুটুকই।

বাকিটা সময় রাজত্ব করে গেছেন ব্রেন্ডন টেলর, সেঞ্চুরিয়ান শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজা। প্রথম দুই উইকেটে হারানোর পর তিনটি জুটি পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। তিনটি জুটিই ৫০ এর বেশি রান যোগ করেছে। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম; এই তিন জুটিতে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় সফরকারীরা। আর তিনটি জুটিতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া শন উইলিয়ামস।

তৃতীয় জুটি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৩২ রান পেয়েছে চতুর্থবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়া দলটি। ব্রেন্ডন টেলর ও শন উইলিয়ামসের গড়া এই জুটি কেবল ১৩২ রানই যোগ করেনি, খাদের কিনারে চলে যাওয়া দলকে টেনে তুলেছেন। এই জুটি গড়ার পথে দুজনই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও টেলর ৭৫ রান করে থামলেও উইলিয়ামস পথ ভোলেননি।

চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৮৪ রানের জুটি গড়ে সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে যান উইলিয়ামস। সিকান্দার রাজা ৪০ রান করে আউট হলে পিটার মুরকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। মুরের সঙ্গেও ৬২ রানের জুটি গড়েন ১২৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা উইলিয়ামস।

পিটার মুর ২৮ রান করে আউট হলেও উইলিয়ামস ইনিংস শেষ করে মাঠ ছাড়েন। ১৪৩ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১২৯ রনে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশের নাজমুল অপু দুটি এবং আবু হায়দার ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট পান। চট্টগ্রামে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আগামী ৩ নভেম্বর সিলেটে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares