Main Menu

‘বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ৯৮তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

+100%-

ডেস্ক ২৪ :বাংলা লোক ও বাঊল সঙ্গীতের অন্যতম প্রধান পুরুষ,বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল ন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। তিনি আধ্যাত্নিক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে। তিনি শরীয়তী, মারফতি, নবুয়ত, বেলায়া সহ সবধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন। সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে উঠা শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় মাত্র কয়েক বছর আগে। একুশে পদক প্রাপ্ত এই বাউল সম্রাট ১৯১৬ সালের আজকের দিনে সুনামগঞ্জের উজানধলে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তাঁর ৯৮তম জন্মদিন। বাউল সম্রাটের জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। \nবাংলা বাউল গানের কিংবদন্তি শিল্পী শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার উজানধলে জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল করিমের বাবা ছিলেন ইব্রাহিম আলী, মায়ের নাম নাইয়রজান বিবি। গ্রামের নৈশ বিদ্যালয়ে মাত্র ৮দিন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেন তিনি। দারিদ্রতা ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। যা কিছু শিখেছেন তা তার নিজের চেষ্টায়। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সঙ্গীতের প্রতি তিনি এতটাই অনুরাগী ছিলেন যে তা ছেড়ে চাকরিতে জড়াননি তিনি। ফলে কাটেনি তাঁর দারিদ্র্য এবং বাধ্য হয়ে নিয়োজিত ছিলেন কৃষিশ্রমে। জীবন কেটেছে সাদাসিধেভাবে। তবে কোনও কিছুই তাঁর সঙ্গীতপ্রেম ঠেকাতে পারেনি। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’।\n\nদারিদ্রতা ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। যদিও দারিদ্রতা তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যায় করতে কিন্তু কোন কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহ আবদুল করিম বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নিতে থাকেন কমর উদ্দিন, সাধক রশিদ উদ্দিন, শাহ ইব্রাহীম মোস্তান বকশ এর কাছ থেকে। লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহ এর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে আব্দুল করিম শরীয়তী, মারফতি, নবুয়ত, বেলায়া সহ সবধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন। দীর্ঘ এ সঙ্গীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি গানেও বিচরণ ছিল তাঁর। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। শাহ আব্দুল করিমের গান শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় মাত্র কয়েক বছর আগে। সাম্প্রতিককালে এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।\n\nস্বল্পশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বাউল শাহ আবদুল করিমের ৬টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলোঃ ১। আফতাব সঙ্গীত, ২। গণ সঙ্গীত, ৩। কালনীর ঢেউ, ৪। ধলমেলা, ৫। ভাটির চিঠি, ৬। কালনীর কোলে। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে রচনাসমগ্র (অমনিবাস) গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। \n\nশাহ আব্দুল করিরে জনপ্রিয় কিছু গানঃ\n১। বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, ২। আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, ৩।গাড়ি চলে না, \n৪। আমি কূলহারা কলঙ্কিনী, ৫। কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া, ৬। মানুষ হয়ে তালাশ করলে ৭। কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু, ৮। বসন্ত বাতাসে সইগো, ৯। আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু, ১০। আমি তোমার কলের গাড়ি, ১১। সখী কুঞ্জ সাজাও গো, ১২। রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না, ১৩। জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে, ১৪। আমি বাংলা মায়ের ছেলে, কোন মেস্তরি নাও বানাইছে ইত্যাদি।\n\n(প্রয়াত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ,শাহ আব্দুল করিম ও অভিনেতা আবুল খায়ের )\nকিংবদন্তি এই মরমী বাউল শিল্পী ২০০০ সালে কথাসাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক পান। ২০০১ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া দ্বিতীয় সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা এবং \’অটোবি\’র আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন আব্দুল করিম। তাঁর পাওয়া অন্যান্য পদক ও সম্মাননার মধ্যে রয়েছে- রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পদক ২০০০, আইডিয়া সংবর্ধনা স্মারক ২০০২, লেবাক অ্যাওয়ার্ড ২০০৩, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০০৪, অভিমত সম্মাননা ২০০৬, সিলেট সিটি কর্পোরেশন সম্মাননা ২০০৬ ইত্যাদি।\n\nবিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা যথেষ্ঠ ছিল না। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট, কিডনির জটিলতা, ফুসফুসে ইনফেকশন এবং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। বাউল সাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা যথেষ্ঠ ছিল না। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে ‘জীবন্ত কিংবদন্তিঃ বাউল শাহ আবদুল করিম’ নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর বার্ধক্যজনিত রোগের চিকি‍ৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়।\n\nগুরুতর অসুস্থ্য হলে ২০০৯ সালেল ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর থেকেই সিলেটের নুরজাহান পলি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিমকে লাইফসাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়ে ছিল। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ইং শনিবার সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাহ আব্দুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে উজান ধল গ্রামে স্ত্রী সরলা বিবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।\n\nবাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের আজ তাঁর ৯৮তম জন্মদিন। কিংবদন্তি এই মরমী বাউল শিল্পীর জন্মদিনে দেশে ও দেশের বাইরে থাকা তার সকল ভক্ত শুভানূধ্যায়ী ও সামু ব্লগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares