Main Menu

নিজের প্রাণ বাঁচাতে বন্ধুদের ছেড়ে পালাননি, ঢাকার শহিদ ফরাজকে শ্রদ্ধা

+100%-

farazডিজিটাল ডেস্ক: প্রাণের চেয়েও মূল্যবান বন্ধুত্ব, নিজের জীবন দিয়ে এই আপ্তবাক্য প্রমাণ করে গিয়েছেন গুলশন জঙ্গি হানার শিকার ফরাজ হোসেন। শহিদকে কুর্নিশ জানাল টিউনিশিয়ার এক মানবাধিকার সংস্থা।

বাংলাদেশের কাফেতে জঙ্গি হামলায় নিহত বছর কুড়ির ছাত্র ফরাজ হোসেনকে শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদানের সিদ্ধান্ত নিল টিউনিশিয়ার গার্ডেন অফ দ্য রাইটিয়স ওয়ার্ল্ডওয়াইড। গত ১ জুলাই গুলশনের অভিজাত কাফেতে সন্ত্রাস হানার সময় ভারতীয় তরুণী তারিশি জৈন-সহ দুই বন্ধুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণ ছাত্র। বাংলাদেশের নাগরিক এবং মুসলিম হওয়ার কারণে জঙ্গিরা তাঁকে কাফে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও রাজি হননি ফরাজ। ফলে হতভাগ্য তরুণকে খুন করা হয়।

সম্প্রতি বীর শহিদ ফরাজ হোসেনকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিউনিশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন। গত ১৫ জুলাই টিউনিশিয়ার রাজধানী টিউনিসে ইতালীয় দূতাবাসের চৌহদ্দির ভিতরের উদ্যানটি ইতালির মিলান শহরের এই সংগঠনটিকে উত্‍সর্গ করা হয়েছে। গার্ডেন অফ দ্য রাইটিয়স ওয়ার্ল্ডওয়াইড সংগঠন ধর্মপ্রাণ আরব ও মুসলিমদের প্রতি উসর্গীকৃত। ‘যারা প্রাণরক্ষা করে তারা সারা বিশ্বকে রক্ষা করে’, ধর্মপ্রাণ বোঝাতে বাইবেলের বাণীর ভিত্তিতে প্রাণরক্ষাকারীদের বোঝানো হয়।

ঢাকায় ফরাজের মা সাইমিন হোসেনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি চিঠি লিখতে অনুরোধ করেছিলেন বাংলাদেশে বহাল ইতালির রাষ্ট্রদূত। ওই চিঠিতে সাইমিন লিখেছেন, ‘বিপদের মুখে নিজের প্রাণ দিয়ে ও বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। ওর এই সিদ্ধান্ত জাতি-ধর্ম-লিঙ্গ বিভাজনের উর্ধ্বে। অটল মূল্যবোধের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফরাজ। পারিপার্শ্বিক সব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আপনজনদের রক্ষা করার ব্রত পালন ওর মজ্জাগত ছিল।’

https://www.youtube.com/watch?v=o6T0bu5rWOI

সাইমিন আরও জানিয়েছেন, তাঁর শহিদ ছেলে বিশ্বাস করতেন জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভালো মানুষ হয়ে ওঠা। সদ্য পুত্রহারা মায়ের কথায়, ‘অশুভের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদাহরণ সৃষ্টি করে গিয়েছে আমাদের ছেলে ফরাজ। শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত সে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে গিয়েছে।’

চিঠির শেষে সাইমিন সই করেছেন এই বলে, ‘তোমার গর্বিত জননী, নিজের অনমনীয় সাহস দিয়ে যাকে তুমি চিরঋদ্ধ করে গিয়েছো।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares