Main Menu

ভিডিও কনফারেন্সে আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সূচনা করলেন মোদি ও হাসিনা

+100%-

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সূচনা করেন৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত সকলেই বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আখাউড়া- আগরতলা রেল যোগাযোগ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুই দেশের মধ্যে ক্রস বর্ডার সম্পর্ক স্থাপন হবে৷ এই প্রকল্পে সহযোগিতা করার জন্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী৷ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বহু বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা আজ পরিপক্কতা লাভ করেছে৷ আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এই সুসম্পর্ক বিশ্বর অন্যান্য অংশের জন্য রোল মডেল হিসাবে গণ্য হবে৷ আমাদের এই সুসম্পর্কের ফলে দুই দেশের জনগণই লাভবান হচ্ছেন৷ রেলওয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ আখাউড়া- আগরতলা রেল যোগাযোগ প্রকল্পের সূচনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের বিদেশমন্ত্রী  এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আখাউড়া রেল যোগাযোগ প্রকল্পের এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে ভারত ও বাংলাদেশের সকল জনগণকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন৷ আখাউড়া আগরতলা রেল যোগযোগে প্রকল্পের কাজ খুব কম সময়ের মধ্যে রূপায়িত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহুকাল ধরেই সাংসৃকতিক, সামাজিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীজি উত্তর পূর্বাঞ্চলকে অষ্টলক্ষ্মী বানানোর যে স্বপ্ণ দেখেছেন তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে৷ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা- কলকাতার মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে তা এক তৃতীয়াংশ কমে যাবে৷ বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে আখাউড়া বর্ডারের মাধ্যমে যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে তা ডেস্টিনেশন টু ডেস্টিনেশন চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এতে উভয় দেশের পণ্যবাহী ট্রাকগুলি পণ্য লোডিং- আনলোডিং করার ক্ষেত্রে যে বাড়তি খরচ হয় তা কমবে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ফেণী নদীর উপর নির্মীয়মান সেতুর কাজ শেষ হলে জলপথে ফেণী নদীর মাধ্যমে কম খরচে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিত পণ্য সামগ্রী আনা নেওয়া যাবে৷ তাতে ভারত, বাংলাদেশ এবং ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জনগণ উন্নয়নের নতুন দিশা পাবেন৷ আজকের এই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় উপস্থিত ছিলেন৷

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থের যোগান দিচ্ছে ভারত।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ মোট ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে আগরতলা অংশে পাঁচ কিলোমিটার আর বাকি ১০ কিলোমিটার আখাউড়া অংশে। রেলপথটি আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে শেষ হবে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares