Main Menu

দলিল রেজিস্ট্রিতে হায়েস্ট ঘুষের অঙ্ক আখাউড়ায়

+100%-

হেবা ঘোষণা শ্রেণির একটি দলিলের সরকারি ফি ৬৮০ টাকা। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস এই দলিল বাবদ আদায় করছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এই টাকা যাচ্ছে সাবরেজিস্টার আর অফিস স্টাফদের পকেটে। বণ্টননামা দলিলের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ হাজার তিনেক টাকা সরকারি ফির স্থলে ইচ্ছামতো মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। সেটি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্তও হয়ে থাকে।

সাবকাবলা দলিলেও ঘুষের রেট চড়া। সবমিলিয়ে এই সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যে হারে ঘুষ নেয়া হচ্ছে তা সারা দেশের মধ্যে হায়েস্ট বলে মনে করেন এখানকার দলিল লেখকরা। সাবরেজিস্টার তাজনোভা জাহাত অফিস করেন ৩ দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেবা ঘোষণা দলিলের জন্য ‘এ’ এবং ‘ই’ ফিস বাবদ ৪৪০ এবং ২৫০ টাকা সরকারি ফি নির্ধারিত। জমির মূল্য যতই হোক এর বাইরে আর কোনো ফি নেই। কিন্তু আখাউড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নানাভাবে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে এই দলিল থেকে।

দলিল লেখকরা জানান, যদি জমির মূল্য ১০ লাখ টাকা হয় তাহলে প্রথম ২ লাখ টাকার ওপর সেরেস্তা দাখিলা বাবদ ২৬শ’ টাকা দিতে হয়। এই ২ লাখ টাকার ওপরে আবার ৪ দশমিক ৭৫ পার্সেন্ট হারে অফিসের নামে ২৩৭৫ টাকা নেয়া হয়। আর বাকি ৮ লাখ টাকা থেকে একই পার্সেন্টেজে যে টাকা (৩৮ হাজার) আসে তার ৮ ভাগের একভাগ ৪৭৫০ টাকাও অফিসের জন্যে নেয়া হয়। মোট কথা ১০ লাখ টাকার হেবা ঘোষণা একটি দলিলের জন্যে ৯৭২৫ টাকা আদায় করছে এই সাবরেজিস্ট্রি অফিস।

আখাউড়া শহরের ভেতরে কয়েক মাস আগে একটি হেবা ঘোষণা দলিল করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা অফিসকে দিতে হয়েছে বলে ওই দলিল গ্রহীতা সূত্রে জানা যায়। পৌর এলাকার বাইরে ১০ শতক ভিটেবাড়ির একটি হেবা ঘোষণা দলিল করার খরচ জানতে চেয়ে একজন দলিল লেখকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান-১৫ হাজার টাকা লাগবে।

কিন্তু পাশের কসবা উপজেলায় এই দলিল করতে ৭/৮ হাজার টাকা লাগে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরেও এরকমই খরচ বলে জানান ওই দলিল লেখক।

কিন্তু আখাউড়ার হিসাব আলাদা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে দলিল কম হয় বলে রেট বেশি। সাবকবলা দলিলের জন্যে পৌরসভার ভেতরে ১০ পার্সেন্ট এবং বাইরের এলাকার জন্যে ৯ পার্সেন্ট টাকার পে-অর্ডার করতে হয়। এই দলিলের ক্ষেত্রে আখাউড়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সেরেস্তা দাখিলা অর্থাৎ অফিস খরচ দিতে হয় ২ হাজার ৬শ’ টাকা।

এরবাইরে প্রতিলাখে ৫’শ টাকা করে দিতে হয় সাবরেজিস্টারকে। যদি ১০ লাখ টাকার দলিল হয় তাহলে ঘুষ হিসেবে দিতে হয় ৭ হাজার ৬শ’ টাকা। বণ্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পে-অর্ডার হয়। জমির মূল্য যাই হোক এর বাইরে পে-অর্ডার হয় না। কিন্তু এই দলিল করার জন্য অফিস ৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নামপ্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক দলিল লেখক বলেন, আখাউড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যে-যেভাবে পারছে লুটছে। সাবরেজিস্টার তাজনোভা জাহাত আখাউড়ায় যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৫ই অক্টোবর। যোগদানের পর থেকে সপ্তাহের তিন দিন সোম, মঙ্গল ও বুধবার অফিস করছেন। এর পাশাপাশি দলিল করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেয়ার জন্য তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, পাশের কসবা উপজেলা সাবরেজিস্টার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার সময় আখাউড়ার সাবরেজিস্টার তাজনোভাকে সেখানে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু দলিল করতে নানা তালবাহানা এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় সেখানকার দলিল লেখকরা জেলা রেজিস্টারের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

তবে সাবরেজিস্টার তাজনোভা জাহাত অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা নির্ধারিত ফি-ই নিচ্ছি। অফিসের কথা বলে মধ্যস্বত্বভোগীরা নিয়ে যাচ্ছে কি-না সেটি দেখার বিষয়। আর ৩ দিন অফিস- অনেক আগে থেকেই হচ্ছে। সপ্তাহের এই ৩ দিনে ৬০-৭০টি দলিল হয় বলে তিনি জানান।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares