Main Menu

লঙ্গন নদী এখন মরা খাল!

+100%-

আক্তার হোসেন ভূইয়া, নাছিরনগর : নাসিরনগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা লঙ্গন নদীর নাব্যতা হ্রাস,ও পর্যাপ্ত পানি না থাকায়  নদীটি এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদীতে বছরে ৩ মাসের বেশী পানি থাকে না। জেলের দলও আর চোখে পড়ে না। নদীর বুকে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ফসল।  শুষ্ক মৌসুমে নদীতে সামান্য পানি থাকে । কোথাও পানি শূন্য। ফান্দাউক থেকে উৎপন্ন হয়ে খাগালিয়ার মেঘনার সাথে একত্রিত হয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জের সাথে মিশেছে। এক সময় লঙ্গণ নদীতে লঞ্চ,স্টিমার চলাচল করতো।  এই অঞ্চলের ধান,পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এ নদী দিয়েই পরিবহন করা  হতো। কিন্তু কালক্রমে হারিয়ে গেছে নদীটির ঐতিহ্য। নদীটি খনন না করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জনপদ নাসিরনগরবাসীর দূভোর্গের সীমা নেই। এই নদীটি হচ্ছে উপজেলা সদরের সাথে উপজেলার ভলাকুট, গোয়ালনগর ও চাতলপাড় ইউনিয়নের লোকজনের নৌপথে চলাচলের একমাত্র রাস্তা। এ নদীটি খনন না করায় এই তিন ইউনিয়নবাসীসহ উপজেলা সদর ও ফান্দাউকের ব্যবসায়ীরা বাজারে তাদের পণ্যসামগ্রী যাতাযাত করতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এ নদী দিয়ে নাসিরনগরের লোকজন নৌপথে ভৈরব,আশুগঞ্জ,কুলিয়ারচর,অষ্ট্রগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত  করে।  এক সময় নদীতে বছর জুড়ে ছিল খরস্রোত। নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল শত শত জেলে পরিবার। নদীর পানি দিয়ে  কৃষকরা চাষাবাদ করতো। নদী দিয়ে যাতায়াত করত দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের নৌকা। এখন সবই স্মৃতি। নদীটি খননের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকাল ছাড়া পানি থাকে না। বছরের বেশীর ভাগ সময় পানি না থাকায় নদীর বুকে কৃষকরা নানা জাতের ফসল চাষ করছে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় লোকজনকে নৌপথে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে নেমে যেতে হয়। বাকি পথ পায়ে হেঁটে আসতে হচ্ছে। বিশেষ করে নাসিরনগর সদর ও ফান্দাউকের ব্যবসায়ীরা বিরাট ভোগান্তির শিকার। ব্যবসায়ীরা ভৈরব-আশুগঞ্জ থেকে মালামাল কিনে নৌকা দিয়ে উপজেলা সদর বাজারে আসতে পারছে না। প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে টেকানগরে মালামাল নামিয়ে ঠেলাগাড়ি দিয়ে বাজারে আনতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদেরকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়,গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ নদী খননে টাকা বরাদ্দ দিলেও ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের পর পরই ঠিকাদার কাজ না করে উদাও হয়ে যায়।






Shares