Main Menu

নাসিরনগরে প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের সমন জারি

+100%-

এম.ডি.মুরাদ মৃধা, নাসিরনগর হতেঃ আমি দিনমজুরের কাজ করি। বাল বাচ্চা পোলাপাইন লইয়া চলতে পারিনা। টেক্সের টেহা দিতে গিয়া আমি বাজার করতে পারিনাই। ৩৩০ টাহা দিতে আমার খুব কস্ট হইছে। টাহা দিছি রিচিট দিছেনা। আমরার পাশের বাড়ির কুতুব বাইয়ের কাছে ৩৩০ টাহা দিয়া আইছি। হেরা কইছে টিওনো আইব। বড় বড় অফিসার আইব। আইয়া সাইরা টাহা নিব। ১০ বছরের টেহা একসাথে দিতে অইব। নাইলে বাড়ি ঘর লইয়া যাইবগা। অহন তিন বছরের টেক্স দিয়ন লাগব পরে সরকার আবার নতুন কইরা নিয়ম করব। কথা গুলো বলছিলেন ভলাকুট ইউনিয়নের দিন মজুর মোঃ জামাল মিয়া।
রুমি বেগম। সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে সংসার চলে। তার স্বামীর দুটি চোখ নেই। গ্রামের বাজারে ভিক্ষে করে যা পায় তা দিয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রুমি বেগমের স্বামীর কাছে বসত বাড়ির টেক্স চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। রুমি বেগম এপ্রতি নিধিকে জানান, ভাইজান আমরা গরীব মানু। টাহা কইত্তে দিমু কন? বড় সাবদের হাতে পায়ে দইরা কইছি টাহা দিতে পারুমনা।
ভলাকুট ইউনিয়নের কৃষক হাসান উল্লাহ বলেন,বছরে একশ টাকা করে তিন বছরে তিনশ টাকা টেক্স নিছে আর টেক্সের বই বাবদ নিছে ত্রিশ টাকা। তবে আমি দশ টাকা কম দিছি। আমার বইয়ের এক জায়গা লিখছে একশত নব্বই টাকা আবার অন্য জায়গায় লিখছে একশ টাকা। কিন্তু আমি দিছি তিনশ বিশ টাকা।
নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়ন হচ্ছে হাওয়র বেষ্টীত একটি দরিদ্র ইউনিয়ন। এখানকার জনসাধারণ হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ। যার অধিকাংশই জেলে বা দিন মজুর। দিনের বেলায় কাজ করলে রাতে তাদের অন্ন জোটে। উপজেলা সদর হতে ভলাকুটের যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব বেশি ভাল নয়। এমনই একটি অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া ইউনিয়ন হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে হোলডিং টেক্স আদায় হচ্ছে চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বঘোষিত আইনে। বিগত কয়েক মাস যাবৎ এলাকার গরীব সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে শারীরীক প্রতিবন্ধীর কাছ থেকেও হোল্ডিং টেক্স আদায় করতে সমন জারি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

গ্রামের প্রতিটি ঘর হতে হাজার টাকার বকেয়া হোল্ডিং টেক্স আদায়ের নামে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায় করছেন। সরেজমি ঘুরে দেখা যায় উক্ত হোলডিং টেক্স আদায় সম্পর্কে এলাকার মানুষ অবগত নন। মনগড়া একটি হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের তালিকা প্রনয়ণ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ।

এ নিয়ে জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভলাকুটের সাধারণ মানুষ এ ধরণের অনৈতিক কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে জরুরী ভিত্তিতে বন্ধের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
সরকার কর্তৃক জারীকৃত ২০১২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ কর আইনের গেজেট অনুযায়ী হোল্ডিং টেক্স আদায় হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে পল্লী বিকাশ সংস্থার কর আদায়কারী প্রধান রতন বলেন, আমরা একশত টাকা বা একশত পঞ্চাশ টাকা নির্ধারণ করিনাই। ডিসি মহোদয়ের অনুমতিক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ একশত টাকা এবং একশত পঞ্চশ টাকা নির্ধারণ করেছে। এসেসমেন্ট করেছে ইউপি পরিষদ। এবং পরিষদ একটি বই তৈরি করে আমাদের নিয়োগ করেছেন। আপনারা কি ভাবে এখানে টাকা উঠাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার পদবী হল আগে আমরা একটা সংস্থায় কাজ করতাম। কিছুদিন আগে সরকার এটা বাতিল করে দিয়েছে। কারণ কোন সংস্থা দিয়ে কাজ করানো যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদের একটি আইন আছে ভাই। যেহেতু আমরা এটা দিয়ে খাই ভাই। ইউনিয়ন পরিষদ চাইলে আমাদের দিয়ে কর আদায় করতে পারে। তাদের নিয়োগ বলে আমরা এ কাজটি করছি। আমাদের সংস্থার নাম হল পল্লী বিকাশ। ভলাকুটে কাজ করার আগে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি। আমাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনেক কাজ করেছি আর সেই সুবাধে আমায় তারা নিয়োগ দিয়েছে। আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে কাজ করেছি। তিনি স্বীকার করেন যে ইউনয়ন পর্যায়ে সর্বনি¤œ কর হল ৫২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। আর আপনাদের ভলাকুটে হল সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা এবং সর্বনি¤œ ২০০ টাকা।
পল্লী বিকাশ কর আদায় সংস্থার রতনের কথায় বিভিন্ন অসঙ্গতী পাওয়া যায়। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কথা বলে এলাকার সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্তী করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এলাকার সাধারণ মানুষদের হুমকী ও ধমকী দিয়ে কর আদায়ের অভিযোগ অনেক। আবার উল্টো চিত্র হচ্ছে এলাকার প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে। যারা প্রভাবশালী তারা হুমকী দিচ্ছেন কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। প্রভাবশালীদের কাছে ইউপি কর্তৃক নির্ধারীত হারে টাকা না নিয়ে নিচ্ছে নির্ধারীত হাে চে কম। এ যেন এক দেশে দুই নীতি।
জামাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমরা হত দরিদ্র। আমরা দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করছে। এবং আমাদের টাকা আদায়ের কোন রশিদও দিচ্ছে না। এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা অসংখ্য। তাদের প্রশ্ন হল রশিদ ছাড়া যে টাকাগুরো নেয়া হচ্ছে এই টাকা কে পাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান বলেন, কোন এনজিওর মাধ্যমে যদি ইউপি হোলডিং টেক্স আদায় করে থাকে তবে তাহা সম্পূর্ণ অবৈধ। পর্যাপ্ত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
ভলাকুট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুবেল মিয়া বলেন, আমরা ডিসি অফিস হতে অনুমতি নিয়ে একটি এনজিও কে টেক্স আদায়ের অনুমতি দিয়েছি। তার পরও এলাকার মানুষের যদি কোন অভিযোগ থাকে তবে বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখব।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares