Main Menu

মেঘনা পাড়ে আতঙ্কে জিম্মি ৬ হাজার লোক, প্রতিবাদ করলেই হত্যার হুমকি

+100%-


বিশেষ প্রতিনিধিঃ সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্ধা ফুল মিয়া (৫৫)। কিশোর বয়স থেকেই মূল পেশা ডাকাতি। তার রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। পুলিশের সাথে রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। বর্তমানে আন্তঃজেলা নৌ ডাকাত সর্দার বা ডাকাত তৈরীর কারিগড় হিসেবে পরিচিত। তার ছেলেদেরকেও হাঁটতে শিখিয়েছেন সেই পথে। পাইপগান কার্তুজ ও হরেক রকমের দেশীয় অস্ত্রের ভান্ডার রয়েছে তার কাছে। দেশের বিভিন্ন জেলার ডাকাতদের নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে তার বাড়িতে। ডাকাতি চুরি ছিনতাইয়ের মালামাল ভাগ হয় তার বাড়িতে। এ ছাড়া রয়েছে অপরিচিত ছেলে মেয়েদের অবাধ যাতায়ত। কেউ প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হয় হত্যা ও গুমের হুমকি। মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চাঁদাবাজি করা তার কৌশল। তাকে আড়াল থেকে শক্তির যোগান দিচ্ছেন মুখোশধারী কিছু গ্রাম্য মাতব্বর। বিনিময়ে পাচ্ছেন ভাগ। কৌশলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছত্র ছায়ায় থাকার চেষ্টা করে ছেলে শরিফ ও বোরহান। তাদের নাম শুনলেই আতকে উঠে লোকজন। ফুল মিয়া বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন নদীতে ডাকাতি সহ সকল অপকর্ম নিরবে সহ্য করে যাচ্ছে পুরো গ্রামবাসী। রাজাপুর গ্রামের ছয় হাজার লোক তার কাছে জিম্মি।

সরজমিনে গেলে কথা গুলো বলছিলেন রাজাপুর গ্রামের শতাধিক লোক। মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী (৭৭), মোহাম্মদ আলী (৫০) ও হাজী মোঃ এনায়েতুল ইসলাম (৫৫) বলেন, চুর ডাকাতের গডফাদার ফুল মিয়া। সে বিশ্ব খারাপ। সে বর্তমানে নদীতে ডাকাতি পরিচালনা করে। সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া দূর্ধর্ষ ডাকাত কাশেম মোল্লার ওস্তাদ ফুল মিয়া। জরুরী অবস্থার সময় অপকর্মের দায়ে যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ছয় মাস হাজত বাসের পর মুছলেকা দিয়ে জামিনে এসেছে। কিন্তু তার চরিত্র বদলায়নি। এখন আরো বেপরোয়া। সে নিজেকে পুলিশের লোক বলে এলাকায় জাহির করে। গ্রামে সব সময় দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগিয়ে রাখে। মামলা করায়। থানার দালালীও করে। তার ছেলেরা এখন ডাকাতির সমন্বয় ও সকল অসামাজিক কাজ করে চলেছে। কিশোরগঞ্জ, বাজিতপুর, দিলালপুর, নিকলি ও লাখাই সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাকাতরা রাতের বেলা তার বাড়িতে জড়ো হয়। তাদের রয়েছে হালকা পাতলা কয়েকটি ছোট নৌকা। এ গুলো ব্যবহার হয় ডাকাতির কাজে। কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে নদীর বিভিন্ন স্পটে ডাকাতি করে তারা। ডাকাতি শেষে অস্ত্র ও লুটের মালামাল জমা রাখে বোরহানদের বাড়িতে। পরে সুবিধামত সময়ে এ গুলো ভাগবাটোয়ারা হয়।

গ্রাম্য চিকিৎসক আবদুল করিম (৬৫) ও খোরশেদ মিয়া বলেন, নদীতে যাত্রীবাহী একটি নতুন ট্রলার নামানোর দায়ে ওই ট্রলারে নিজেদের একটি পাইপগান রেখে দেয় বোরহান। পরে নাটক সাজিয়ে মালিক সাফিল উদ্দিনকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করে। সাজানো মামলায় সে ছয় মাস জেল খেটেছে।

গ্রামের বাসিন্ধা খোরশেদ মিয়া (৫৫) ও যুবক আবদুল হাসিম বলেন, প্রতি মঙ্গলবার ফেন্সিডিল নিয়ে দুইটি মেয়ে বোরহানদের বাড়িতে আসে। তাদের নৌকা দিয়ে মাদকসহ মেয়ে দুটিকে নদী পাড় করে বাজিতপুর দিয়ে আসে। তাদের বাড়িতে নিয়মিত অসামাজিক কাজ হয়। বাঁধা দেওয়ায় আমরা পাঁচ যুবককে হত্যা করে লাশ ঘুম করার হুমকি দেয়। খেলু মিয়া (৭০) বলেন, ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। আমি সামান্য প্রতিবাদ করেছিলাম। তারা আমাকে সরাসরি বাড়ি লুট ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। তারা সব সময় পুলিশের সাথে উঠা বসা করে। তাই আমাদের সত্য বলতেও ভয় হয়। সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য চাঁদ সুলতানা সীমা বলেন, ভৈরব থেকে নৌপথে যাতায়তকারী লঞ্চ ও ট্রলারে ডাকাতির মূলহোতা ফুল মিয়া। তার চাচাত ভাই সরাজ ছেলে বোরহান সহ অন্য ছেলেরা নিয়মিত ডাকাতি করছে। তারা জেলে যাত্রীদের লুন্ঠিত মালামাল টাকার বিনিময়ে একাধিকবার উদ্ধার করে দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সাফায়েত উল্লাহ (৫২) বলেন, ফুল মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলে বাইচ্যা থাকার কোন গ্যারান্টি নেই। পৃথিবীতে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করতে পারে না। ফুল মিয়া বাহিনীকে গ্রেপ্তার করলে মেঘনার ডাকাতি ৯০ ভাগ বন্ধ হয়ে যাবে।

ওসমান গনি জানায়, সম্প্রতি ফুল মিয়ার  ছেলেরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে। চাঁদা না দেওয়ায় তাদেরকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে সরাইল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত বোরহান তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, আমার বাবা একজন সালিসকারক। গ্রামের একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

ফুল মিয়া বলেন, বাজিতপুরের চেয়ারম্যান তছলিম মিয়া মাঝে মধ্যে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আর কেউ আসে না। ডাকাত কাশেম মোল্লার নৌকাটি আমি উদ্ধার করে পুলিশকে দিয়েছি। গ্রামের কিছু লোকের সাথে আমার জগড়া ঝাটি আছে। তারা আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলছে।

অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ফুল মিয়া সম্পর্কে লোক মুখে অনেক কথাই শুনে আসছি। কিন্তু কাগজে কলমে কোন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, ফুল মিয়া সম্পর্কে আমি খুব বেশী জানি না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।






Shares