Main Menu

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাত্রলীগ ক্যাডার! * পঁচা বিবর্ণ কাকঁড় মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত চাউল ঢুকছে সরাইল খাদ্য গুদামে

+100%-
সরাইল প্রতিনিধিঃ সরাইল উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া। তার চাকুরীর বয়স মাত্র তিন বছর। নিয়ম ভঙ্গ করে খুঁটির জোরে তিনি আরো এক বছর পূবেই সরাইল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। গর্বের সাথে বললেন আমি ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলাম। তার টার্গেট এ যাত্রা চল্লিশ লক্ষ টাকা কামাই। লক্ষ্যের দিকে তিনি এগুচ্ছেন। বাঁধা স্থানীয় কিছু সাংবাদিক। তার সাফ কথা পত্রিকার রির্পোটে চাকুরী যায় না। কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে কিছু টাকা খরচ হয়। তারপর দিপুমনি আপা তো আছেনই। তাই ধান চাউল সংগ্রহের নামে তিনি দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন লুটপাট। পরীক্ষা নিরীক্ষার কোন বালাই নেই। মোটা অংকের মাসোয়ারার বিনিময়ে গুদামে ঢুকাচ্ছেন পঁচা বিবর্ণ কাকঁড় মিশ্রিত দূর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের চাউল। অপচয় করছেন সরকারের অর্থ। সরকারের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন না হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তিনি। এমন হাজারো অভিযোগ একাধিক মিল মালিক ও স্থানীয় লোকজনের।
গতকাল রোববার বিকেলে একশ্রেণীর অসাধু মিল মালিকদের সাথে রফাদফার মাধ্যমে গুদাম কর্মকর্তারা নি¤œমানের চাল গুদামে ঢুকানোর খবরে সাংবাদিকরা সরেজমিন গেলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুদামে চাল উঠানামার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক জানান, সংগ্রহ করা অনেক চাল পঁচা ভাঙা ও লাল রংয়ের। কাকঁড় মিশ্রিত এসব চালে তীব্র দুর্গন্ধ। নি¤œমানের এসব চালের বস্তাগুলো গুদামজাত করা মোটামুটি ভাল এমন চালের বস্তার আড়ালে বিশেষ কায়দায় রাখা হচ্ছে। যা সহজে খুঁজে বের করা কঠিন। গত ১৩ জুন সন্ধায় টন প্রতি এক হাজার টাকা মাসোয়ারা রফদফায় চার’শ বস্তা পঁচা ও বিবর্ণযুক্ত চাউল ঢুকিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। একাধিক মিল মালিক জানান, এখানে যত বেশী ঘুষ দেয়া যায় ততবেশী নিম্নমানের চাউল ঢু কানো সম্ভব। মাসোয়ারা কম দিলেই হাজারো আইনের আওতায় পড়তে হয়। রিপন নামের একজন অথারাইজ মিলার। বাড়ি আশুগঞ্জের আড়াইসিধা গ্রামে। তার সাথে রয়েছে আসাদুজ্জামানের গোপন সখ্যতা। তিনি টাকার পাশাপাশি ওই কর্মকর্তাকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজাদ ফ্যাশন গ্যালারী থেকে উপঢোকন দেন দামী শার্ট ও গেঞ্জী। রিপনের চাউল গুদামে ঢুকে শব্দ ছাড়া। গুদামে চাল নিয়ে আসা মেসার্স প্রগতি রাইছ মিলের প্রতিনিধি মোঃ উবায়দুল মিয়া জানান, তাদের কিছু চাল গ্রহণ করলেও বেশীর ভাগ চাল নিতে গুদাম কর্মকর্তা অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি বলেন, টাকা ছাড়া এখানে চাউল দেয়া যায় না। কিছুক্ষন পূর্বে টাকার বিনিময়ে আমার চাউলের চেয়ে অনেক নি¤œমানের চাল গুদামে ঢুকানো হয়েছে। তার বাড়ি চাঁদপুর হওয়ায় দিপুমনির ভয় দেখিয়ে যা ইচ্ছে তাই করছেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে ধান-চাউল সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউলের বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬’শ ৭৩ মেট্রিক টন, ২‘শ ৯৭ টন আতপ চাউলের বিপরীতে ২‘শ তিন মেট্রিক টন চাউল সংগ্রহ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে একমুঠো ধান সংগ্রহ হয়নি আদৌ।
গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ভূইঁয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  গুদামে নিয়ে আসা সকল চাউলই  গ্রহণের উপযোগী নয়। তারপরও নানা তদবিরে কিছু বস্তা চাল গুদামে ঢুকানো হয়েছে। একেবারে নি¤œমানের চাউল গুলো নিতে পারছি না। আমি ও একসময় ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলাম। তিনি গর্বের সাথে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, সরকারের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন হবে না। এ ছাড়া সরকারি মূল্য চেয়ে বাজার ধর বেশী তাই কৃষকরা গুদামে ধান নিয়ে আসছে না।
সরাইল উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এখানে ধান-চাল সংগ্রহে সকল নিয়মনীতি মানা হচ্ছে। অনিয়মের বিষয়টি সঠিক নয়। তিনি জানান, ধান ও চালের সরকারি মূল্যের চেয়ে এখন বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় সংগ্রহ কার্যক্রমে একটু অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে। চাল সংগ্রহে অনেকের তদবির রক্ষা করলেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই গুদামে চাল ঢুকানো হচ্ছে। 






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares