Main Menu

সরাইলে স্কুল ছাত্রীর অশ্লিল ছবি ইন্টারনেটে ছাড়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

+100%-

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃসরাইলে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত যৌন নিপিড়ন ও গোসল করার ছবি ভিডিও গোপনে ধারন করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে মনির মিয়া (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়েও মনিরের নিপিড়ন থেকে বাঁচতে পারেনি ছাত্রীটি। স্থানীয় সালিসকারকরা ঘটনাটি দেখে দেওয়ার কথা বলে শুধু টাল বাহানাই করছেন। গত বুধবার গভীর রাতে চুন্টা ইউনিয়নের করাতকান্দি গ্রাম থেকে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ, মামলা ও ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, করাতকান্দি গ্রামের মোঃ আরব আলীর ছেলে ৩ সন্তানের জনক মনির হোসেন (৩৩)। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে ৭-৮ মাস আগে দেশে আসে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে একই গ্রামের বাসিন্ধা চুন্টা এ সি একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে নিয়মিত উত্যক্ত করতে থাকে। বাড়িতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে বলত। মান সম্মানের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা তখন নিরব থাকে। এ সুযোগে বখাটে মনিরের উত্যক্তের মাত্রা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় সে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মনির ছাত্রীর উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে যেখানেই দেখে অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি ও ভাষা ব্যবহার করতে থাকে। মনিরের অসহনীয় যন্ত্রণায় ছাত্রীটি এক সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
মনির স্কুল ছাত্রীর পাশের ঘরের বাসিন্ধা মাজেদা বেগমকে (৩০) বাগে নেয়। তার এখানে নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করে। এক সময় ওই মহিলার ঘরের বেড়া ছিদ্র করে ছাত্রীর গোসলের আপত্তিকর অশ্লিল ষ্টীল ছবি ও ভিডিও কৌশলে গোপনে ধারন করে। গত এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে প্রিন্ট করা ওই ছবি গুলো রাতের বেলা ছাত্রীর রান্না ঘরে রেখে যায়।
বিষয়টি নিয়ে তাদের বাড়িতে বসে সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সহ কয়েকজন আলোচনা করে চলে আসেন। কোন সিদ্ধান্ত বা বিচার কিছুই হয়নি। আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে বখাটে মনির। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রীকে ভূঁইশ্বর গ্রামে তার মামার বাড়িতে নিয়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু খবর পেয়ে সেখানেও যাওয়া শুরু করে বখাটে মনির।
এসব কারনে গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। গত কয়েকদিন আগে অশ্লিল ছবি গুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় মনির। চুন্টার বিভিন্ন জায়গায় বসে লোকজনকে ডেকে এনে নেট খুলে ছবি দেখাতে থাকে। ছাত্রীর পরিবার ওই গ্রামের অসহায় নিরীহ মানুষ। নিরুপায় হয়ে ছাত্রীর বড় ভাই এ বিষয়ে আইনগত ভাবে প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ এপ্রিল নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
গত বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে করাতকান্দি গ্রাম থেকে বখাটে মনিরকে গ্রেপ্তার করে সরাইল থানা পুলিশ। মনির গ্রেপ্তারের পরই গা ঢাকা দিয়েছে মাজেদা বেগম। গতকাল বিকেলে থানার দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, হাজতের ভেতরে মনির । আর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পাহাড়া দিচ্ছেন একজন কন্সটেবল। কি কারনে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাওয়া মাত্র উত্তেজিত কন্ঠে মনির উত্তর দেন এ গুলো কিছুই না। এ সময় পাশ থেকে মনিরের বড় ভাই কামালও উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে কলেন, মনিরকে এসব বিষয় জিজ্ঞাসা না করে ওসি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ রুপক কুমার সাহা বলেন, ছাত্রী বাদী হয়ে মনিরের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছে। এ মামলায় মাজেদা নামের মহিলাকে সম্পৃক্ত করা যায় কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।






Shares