Main Menu

অবশেষে নৌকা পেলেন মোকতাদির চৌধুরী নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা

+100%-
সুমন নূরঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনে অবেশেষে নৌকা প্রতীক পেলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য রআম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং অফিসার এ প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করেন।

ইতিহাসের সবচেয়ে কম প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে জাতীয় সংসদের দশম নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে জনমনে খুব একটা চমক বা আগ্রহ না থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ছিল উত্তেজনা। ছিল ক্ষোভ ছিল চমক। বেশ কিছুদিন যাবৎ আওয়ামী লীগ বনাম জাতীয় পার্টির দরকষাকষি ছিল নির্বাচনের প্রার্থীতা নিয়ে। এরশাদ সাহেব তথাকথিত অসুস্থ হবার আগেই জাতীয় পার্টির একটি তালিকা দেয়া হয় সরকারের নীতি নির্ধারকদের হাতে। ওখানে জাতীয় পার্টির আসন দাবী করা হয় ৭০টি। এ নিয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়। বেশ কয়েকটি ব্যাপারে সমঝোতা হলেও কয়েকটি আসনে একক মনোয়ন নেবার জন্য প্রচন্ড রকম চাপ তৈরি হতে থাকে আওয়ামী লীগের উপর। এ রকমই একটি আসন হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনটি। এ আসনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রাজধানী হিসাবে পরিচিতি। গত ২রা ডিসেম্বর ব্যাপক ঢাকঢোল বাজিয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন করেন মোকতাদির চৌধুরী। গত সাড়ে ৩ বৎসরে দলের, এলাকার প্রতি মোকতাদির চৌধুরীর অবদানের কথা সবাই জানে। র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী প্রচন্ড সমস্যায় পরেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে সাংবিধানিক ধারা বজায় রাখতে নমিনেশন পেপার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে পৌছলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেতা কর্মীরা। দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে। অবরোধ করা হয় কুমিল্লা সিলেট মহাসড়ক, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়।
র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে নেতাকর্মীদের প্রচন্ড ক্ষোভের মুখে পড়েন এবং কোন অবস্থাতেই তার মনোনয়ন পত্র পত্যাহার করা চলবে না বলে সবাই জানিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের ও ক্রীড়া সম্পাদক শেখ মোঃ আনার জানান, এটা আমাদের অস্তিত্বের ব্যাপর। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীকে এ এলাকার ১০ জন ব্যক্তিও চিনে না। স্থানীয় রাজনীতিতে তার কোন কর্মকান্ডের কথাও কেউ জানে না। এ ধরনের লোক মনোনয়ন পেলে আমাদের আত্মাহুতি দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
নেতা কর্মীদের এ ধরনের ক্ষোভ লক্ষ্য করে মোকতাদির চৌধুরী সাহেব ও কিছুটা আবেগ প্রবন হয়ে উঠেন।
হাতের ফোনটি ব্যস্ত হয়ে পড়ে দলীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে কথা বলার জন্য।
নেতাকর্মীদের প্রচন্ড ক্ষোভের মুখে মোকতাদির চৌধুরী চুপ করে বসে থাকেন। একদিকে দলের নির্দেশ অন্যদিকে নেতাকর্মীদের ক্ষুদ্ধ মনোভাবের মুখে উনি রওয়ানা হন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসেন। যুব নেতা গোলাম মোস্তফা রাফি ও তার বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে মোকতাদির চৌধুরী পথ আগলিয়ে রাখেন। কোন অবস্থাতেই মনোনয়ন পত্র পত্যাহার করা যাবে না বলে এমপি মহোদয়কে জানিয়ে দেন। এ অবস্থায় এমপি মহোদয় জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিনের সাথে একান্ত কিছু কথা বলেন। এর পর উনি জেলা রিটানিং অফিসারের রুমে চলে যান।

এখান থেকে বেরিয়ে উনি নিশ্চুপভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করে দলীয় অফিসে চলে আসেন। এদিকে নেতাকর্মীরা সমস্ত শহর জুড়ে মিছিল করতে থাকে এবং বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে গন মাধ্যমের সাংবাদিকরা অপেক্ষা করতে থাকে রির্টানিং অফিসারের বক্তব্য শোনার জন্য। সময়সীমা শেষ হবার পর জেলা রিটানিং অফিসার জানান র. আ. ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ বক্তব্য সাথে সাথে বিভিন্ন গন মাধ্যমে চলে যায় আবারও শুরু হয় অসন্তোষ। নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকল্পিত হতে থাকে শহরের প্রধান রাস্তা। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তার মনোনয়ন পত্র আদো প্রত্যাহারই করেন নি। তার পর জানা যায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর সমর্থনে তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। এতে করে যবনিকা ঘটে এই নাটকের। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা শুরু হয়ে যায়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares