Main Menu

সদর হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার নিচেই চলে দালালি, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

+100%-

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতাল। এই হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নিতে জেলার ৯টি উপজেলার সহ আশপাশ জেলার সাধারণ জনগণ।

চিকিৎসা সেবার এখানে কোন কমতি নেই কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই হাসপাতালে ঢুকতেই পড়তে হচ্ছে দালালদের খপ্পরে। তারা গ্রাম থেকে আসা সাধারণ মানুষকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। ফলে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসক এসব দালালদের লালন-পালন করেন।

এই হাসপাতালে অন্তত ৩০জন দালাল রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মোবারক, জালাল, মুসলিম, রোকেয়া, সালমা, শিল্পী, মুক্তা-১, মুক্তা-২, স্বর্ণা, নারগিস, জাবেদ, আলম, জুয়েল, দুদ মিয়া, আছিয়া, শাকিল, মামুন, হুমায়ূন, ফয়সাল, আরশ, বশির, সাথি, মায়ারানী, যুথি, জেনী।

হাসপাতালের ভেতরে বহিঃবিভাগের দুইটি কাউন্টারের সামনে ও জরুরী বিভাগের ভেতরে থাকে তাদের অবস্থান। বিশেষ কয়েকজন চিকিৎসকের বেলায় তাদের হাসপাতালে চেম্বারের ভেতরেই দালালদের দেখা মেলে।

জেলার নাসিরনগর থেকে আসা জুবেদা বেগম জানান, আমার ছেলের পেটের ব্যাথা নিয়ে এই হাসপাতালের উদ্দেশে আসি। কিন্তু জরুরী বিভাগের টিকেট কাটার সময় এক ব্যক্তি বলেন হাসপাতালে আজকে এ রোগের চিকিৎসক নেই। কথা প্রসঙ্গে ওই ব্যক্তি বলেন এক চিকিৎসক আছেন খুব ভাল তার পরিচিত এক ক্লিনিকে বসেন। পরে তার কথায় সন্তুষ্ট হয়ে ছেলেকে নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে গেলে কিছু টেস্ট দেন। বিল আসে প্রায় ৫হাজার একশত টাকা। আমার কাছে এত টাকা না থাকায় বিকাশে টাকা এনে বিল পরিশোধ করি। ওই চিকিৎসক ঔষধ লিখে পনের দিন পরে আসতে বলেন। কিন্তু চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ কোন কাজে আসেনি। ব্যাথা না কমায় আবার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসলাম।

জুবেদার মত এমন অসংখ্য মানুষ গ্রাম থেকে এই হাসপাতালে এসে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পর প্রশাসন থেকে ঢাকঢোল পিটিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা কোন কাজে আসছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ওই ক্লিনিকের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন চিকিৎসক এসব দালালদের ভরণপোষণ করেন। সকালে এসব দালালদের নাস্তার টাকা দেওয়া হয় ওইসব ক্লিনিক থেকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত যদি কোন দালালকে আটক করে জেলে পাঠান তখন তাদের পরিবারকে ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন তারা। প্রতি রোগী থেকে রোগ নির্ণয়ে টেস্ট অনুযায়ী শতকরা ৫০ভাগ থেকে ৪০ভাগ পেয়ে থাকেন দালালরা। তবে আলট্রাসনোগ্রাফি ও ডিজিটাল এক্স-রে থেকে তারা কমিশন কম পান। তাই অনেক ক্ষেত্রে এসব টেস্টের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করান ডায়াগনস্টিক সেন্টার গ্রাম থেকে আসা সাধারণ রোগীদের ফুসলিয়ে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন জানান, হাসপাতালে দালালদের বিষয়ে আমরা মাইকে সচেতনামূলক দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। এই বিষয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares