Main Menu

রোকেয়া পদক পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কন্যা প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া

+100%-


নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আজ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলাসহ ৫ জন বিশিষ্ট নারীকে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২১’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই পদক প্রদান করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বিজয়ীদের মাঝে পদক হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া ১৯৪৮ সালের পহেলা জুলাই বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ভাতশালা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম রফিকুল ইসলাম, তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, পরবর্তী সময়ে উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও সু-পরিচিত ক্রীড়াবিদ সুখ্যাতি অর্জন করেন এবং মাতার নাম বেগম আজিজা খাতুন, তিনি বিশিষ্ট লেখিকা ও সংস্কৃতিমনা সমাজসেবী হিসেবে খ্যাত।

হাসিনা জাকারিয়ার বড় ভাই উপমহাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, যিনি ২০১৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তাঁর পিতামহ ছিলেন ১৮৮৯ সনে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট, তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ইন্সপেক্টর অব স্কুলস। মাতামহ ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের মেধাবী ছাত্র, তৎকালীন আসাম সরকারের পুলিশ বিভাগের এস.আই. হিসেবে ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে কর্মরত।

অধ্যাপক হাসিনা জাকারিয়া উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তাঁর পরিবারের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নীতির প্রশ্নে আপসহীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ হাসিনা জাকারিয়া মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির আক্রোশের শিকার হন এবং ২০০৫ সালে তাঁকে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

নিবেদিত প্রাণ ও প্রচারবিমুখ শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা কেবল শিক্ষাব্রতী হিসেবে নন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সারাদেশে সর্বজনবিদিত। এই কৃর্তিমান শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার্থে ‘ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ’ নিয়ে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বার্থ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ও লেস্টার ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ ফেলো হিসেবে উন্নয়নমূলক গবেষণার কাজ করেন। তিনি মনস্থির করেন, গণতান্ত্রিক চাকরি নয়; বরং এমন একটি মৌলিক কাজ করবেন যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তচিন্তার চর্চায় বেড়ে উঠতে পারে এবং দেশ ও জাতির জন্য আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে। সে বোধ আর ভাবনা নিয়ে ১৯৮৬ সালে তিনি ইস্পাহানি পাবলিক স্কুলে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ফ্যাকাল্টি হিসেবে আছেন।
একজন দক্ষ প্রশাসক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করে তিনি দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে চলেছেন। তিনি বর্তমানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত আছেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অবদানের জন্য তিনি বেশ কিছু পদকও পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি পদক-২০০৬, মহান স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা-২০১৭, মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা-২০১৮, শিক্ষা সম্মাননা-২০০১, ২০০২, ২০০৬, ২০১৩, ২০১৪ এবং শিক্ষক সম্মাননা ২০১০ ২০১৬ অন্যতম। তাঁর প্রকাশিত গবেষণা ও প্রবন্ধের মধ্যে বঙ্গবন্ধু : জীবন ও দর্শন উল্লেখযোগ্য।