Main Menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জুয়া খেলা : আখাউড়ায় চলছে নির্ভয়ে, সদরের এমপি দিলেন ২ আসরের তথ্য

+100%-

নির্ভয়ে জুয়া খেলা চলছে আখাউড়ায়। থানার পাশেই জমজমাট এই জুয়ার আসর। ঢাকায় ক্যাসিনোতে অভিযান,এতো তোলপাড়ে এখানকার জুয়ারীদের কোন ডরভয় স্পর্শ করেনি। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্নস্থানে রয়েছে জুয়ার আসর। আছে প্রভাবশালী জুয়ারী।

সদরের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী জেলা শহরে দুটি জুয়ার আসরের তথ্য দেন ৫ই সেপ্টেম্বর পৌর আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তার বক্তৃতায়। বিশ্বরোড এলাকায় রশিদ মার্কেট আর শহরের কে দাশ মোড়ের পেয়ারা টাওয়ারে জুয়া খেলা হয় জানিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে তৎপর হতে বলেন তিনি। এরপরই নড়েচড়ে বসে সদরের পুলিশ। অভিযানও চালায় সেখানে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সেলিম উদ্দিন বলেছেন- ওই দুটি জুয়ার আসরে তারা অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু রশিদ মার্কেটের আসরে কাউকে পাওয়া যায়নি। পিয়ারা মিয়া টাওয়ারেও সাদা পোশাকে পুলিশ নজর রাখছে।হিরণ মিয়া নামে শহরের এক প্রভাবশালী জুয়ারী উত্তর পৈরতলায় তার বাড়িতে সপ্তাহের দু-দিন শুক্র ও শনিবার জুয়ার আসর বসান বলে সুত্র জানিয়েছে।

এছাড়া মধ্যপাড়া ও জগতবাজারেও ওই জুয়ারী সময় সুযোগমতো আসর চালান। শহরের মেড্ডায় অগ্রনী সংসদে জমজমাট জুয়া খেলা চলছে এখনো। রাত ৯টার পরই এখানে জমে জুয়ার আসর। চলে গভীররাত পর্যন্ত। দূরদূরান্ত থেকে জুয়ারীরা আসে এখানে গাড়িতে করে। বিএনপি দলীয় এক জনপ্রতিনিধি,ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এক নেতা এই জুয়ার আসরের প্রধান। মদও চলে এই আসরে। শহরের মধ্যপাড়া ব্রাদার্স ক্লাবেও তাসের নামে জুয়া খেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বিজয়নগর উপজেলার কয়েক স্থানেও বসছে জুয়ার আসর। উপজেলার সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে চম্পকনগরের বাদেহাড়িয়া নামকস্থানে। সেখানকার কালিশ্বর মন্দিরের পেছনে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে এই জুয়ার আসরে হবিগঞ্জ ও মাধবপুর থেকে লোকজন আসে জুয়া খেলতে।

শাহজাহান ও ঝন্টু এই জুয়ার আসরটি চালান। মাঝেমধ্যে কালিরবাজারেও জুয়ার আসরটি স্থানান্তরিত হয়। এছাড়া হরষপুর,চতুরপুর,পাহাড়পুর ও আউলিয়াবাজারে তাস খেলার নামে চলে জুয়া খেলা। পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া, ফারুক মিয়া, তিতাস, সিঙ্গারবিলের মানিক এবং বাড়িউড়ার সাবেক ইউপি সদস্য ফতেহ আলী মনিপুর আতকাপাড়া গ্রাম,চাওড়াখোলাসহ বিভিন্নস্থানে চালাচ্ছেন জুয়ার আসর।

সরাইল উপজেলার বিভিন্নস্থানেও জুয়ার আসর বসে। পাকশিমুল,রসুলপুর,উচালিয়াপাড়ার মোড়ে সময় সুযোগে জুয়ার আসর বসায় স্থানীয় জুয়ারীরা।

তবে ঢাকায় ক্যাসিনোতে অভিযান শুরুর পর জেলার বিভিন্নস্থানে জুয়ারীরা কিছুটা ভয়ভীতির মধ্যে থাকলেও নির্ভয়ে জুয়া খেলা চলছে আখাউড়ায় রেলওয়ে থানা সংলগ্ন রেলওয়ে ক্লাব(লাল হোসেন ইনষ্টিটিউট)ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অফিসে। সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত তাস খেলার নামে চলে এখানে জমজমাট জুয়ার আসর। রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং রেলওয়ে কলোনী ও পাশর্^বর্তী এলাকার প্রভাবশালীরা এখানে জুয়া খেলে। জুয়ার খেলার পাশাপাশি এখানে চলে মাদক সেবনও। রেলওয়ে ক্লাবের দু-একজন নেতার মদদে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চালাচ্ছে এই অপকর্ম। থানা থেকে মাত্র ২০গজ দূরে এসব অনৈতিক কাজকর্ম চললেও রহস্যজনক কারনে নিরব পুলিশ। তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এছাড়াও রেলওয়ে রানিং রুম সংলগ্ন কোয়াটারে অবৈধভাবে দখল করা একটি বাসায় সন্ধ্যার পর জুয়ার আসর বসে। এই বাসাটি এক সাংবাদিকের দখলে। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার জুয়া খেলা হয় এখানে।

রেলওয়ে পূর্ব কলোনীর কয়েকটি বাসায় গড়ে উঠেছে মাদকের আস্তানা। এসব বাসায় মাদক কেনাবেচনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির চাচাতো ভাই শ্রমিকলীগ নেতা লাকসু খলিফা বাইপাস এলাকায় রেলওয়ের একটি বাসা দখল করে চালাচ্ছেন নানা অপকর্ম । তার এখানেও মদ, গাজা, ইয়াবা বেচাকেনা ও জুয়ার আসর চলে রাতভর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন-এব্যাপারে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। জুয়ার বিষয়ে খবর পাওয়া মাত্রই তারা অভিযান চালাবেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares