Main Menu

নজরুল সাহিত্যের কবি, বঙ্গবন্ধু রাজনীতির: প্রধানমন্ত্রী

+100%-

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাহিত্যের কবি আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতির কবি ছিলেন বলেন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৬ মে, শনিবার পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেএনইউ) বিশেষ সমাবর্তনে সম্মানসূচক ‘ডি লিট’ ডিগ্রি গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি, অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।’

‘নজরুল ভারতে জন্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কবিতা ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। নজরুল অসাম্প্রদায়িক চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাই আমরা এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আমাদের নীতি ও আদর্শে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন হয়েছে, যেখানে সব মানুষ জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সমঅধিকার ভোগ করছেন’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডি লিট’ ডিগ্রি দিয়েছেন কেএনইউ কর্তৃপক্ষ।

সে সময় উপস্থিত স্নাতকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করতে চাই- শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, জীবনের সর্বক্ষেত্রে সবার আগে মানবতাকে স্থান দিন। বিদ্রোহী কবি নজরুলের কবিতা, কাজে অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার প্রতিফলন হয়েছিল। বাংলা ভাগ হলেও দুই মহান কবি নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ ভাগ হননি। তারা দুই বাংলায়ই (বাংলাদেশ ও পশ্চিববঙ্গ) আছেন।’

মানব কল্যাণে কাজের ক্ষেত্রে নজরুলের চেতনা যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

এই অঞ্চল নিয়ে কথা বলেতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমরা শুধু বাংলাদেশকে নিয়েই ভাবি না, বরং এই উপমহাদেশের কথাও চিন্তা করি। আমরা এই মহাদেশকে দরিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান করেছি। কিন্তু আমাদের সমস্যা নয় বরং মানুষের কল্যাণ নিয়ে বেশি ভাবতে হবে।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক কারণে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমরা এই সংকটের দ্রুত সমাধান চাই। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম হানাহানি, সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে সুরক্ষা পাবে।’

সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়ায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই সম্মানকে বাংলাদেশের জনগণ ও সব বাঙালির প্রতি উৎসর্গ করেন। সে সময় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও জানান তিনি।

পশ্চিববঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ও কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সাধন চক্রবর্তীও সমাবর্তনে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে গেছেন। প্রথম দিনে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম সমাবর্তনে অংশ নেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের অর্থে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিকেলেই তিনি কলকাতা যান।

কলকাতা থেকে সকালে আসানসোল পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বেলা পৌনে ১২টার দিকে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন উৎসবে যোগ দেন তিনি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares